‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা কোনটি ? – Bangla MCQ


প্রশ্ন:  ‘অগ্নিবীণা’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা কোনটি ? 

ক.  বিদ্রোহী

খ.  প্রলয়োল্লাস

গ.  ধূমকেতু 

ঘ.  অগ্রপথিক

উত্তর:  (খ) প্রলয়োল্লাস । 

ব্যাখ্যাঃ-

কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা সাহিত্যের এক অমর কবি, যিনি তার সাহসী ও প্রতিবাদী কবিতার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। তার রচিত কাব্যগ্রন্থ “অগ্নিবীণা” বাংলা কাব্য সাহিত্যে একটি যুগান্তকারী সংযোজন। এই কাব্যগ্রন্থে সংকলিত প্রথম কবিতা “প্রলয়োল্লাস”। এই প্রবন্ধে “প্রলয়োল্লাস” কবিতার ব্যাখ্যা, এর থিম এবং কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 প্রলয়োল্লাস: একটি পরিচিতি

“প্রলয়োল্লাস” কবিতাটি “অগ্নিবীণা” কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হিসেবে স্থান পেয়েছে। এই কবিতাটি ১৯২২ সালে প্রথম প্রকাশিত হয়। কবিতার শিরোনাম থেকেই বোঝা যায়, এটি এক ধ্বংসাত্মক আনন্দের উদযাপন। কবিতায় প্রলয় বা ধ্বংসের মাধ্যমে নতুন সৃষ্টি ও পুনর্জন্মের কথা বলা হয়েছে। কাজী নজরুল ইসলামের এই কবিতায় বিদ্রোহী সত্তা এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে তার গভীর অনুভূতির প্রকাশ পেয়েছে।

কবিতার থিম এবং মূল বার্তা:

“প্রলয়োল্লাস” কবিতায় নজরুল ইসলাম ধ্বংস এবং সৃষ্টির মধ্যকার আন্তঃসম্পর্ক তুলে ধরেছেন। কবিতার প্রধান থিম হলো ধ্বংসের মধ্য দিয়ে নতুন সৃষ্টির সম্ভাবনা। তিনি প্রলয়ের মাধ্যমে পুরাতন ও জীর্ণ সমাজব্যবস্থা ধ্বংস করার এবং তার পরিবর্তে একটি নতুন, স্বাধীন ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন দেখেছেন।

কবিতায় কবি বলেছেন:

“আজি প্রলয়োল্লাসে গাহি গান

ভেদিয়া মর্ত্য ভুবন শুনুক গগন শুনুক তান!”

এই লাইনগুলোতে কবি প্রলয়ের মধ্যে সৃষ্টির আনন্দ খুঁজে পেয়েছেন। তার মতে, ধ্বংস মানেই শেষ নয়, বরং এটি একটি নতুন শুরুর সূচনা। 

কবিতার রূপক ও প্রতীক:

“প্রলয়োল্লাস” কবিতায় কাজী নজরুল ইসলাম রূপক ও প্রতীকের মাধ্যমে তার বার্তা প্রকাশ করেছেন। প্রলয় এখানে একটি রূপক, যা পুরাতন ও অন্যায় সমাজব্যবস্থার ধ্বংস এবং নতুন সমাজের সৃষ্টির প্রতীক। 

কবিতায় বিদ্রোহ, প্রলয় এবং উল্লাসের প্রতীকী ব্যবহার বিদ্যমান। নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী সত্তা এই কবিতায় স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। তার মতে, সৃষ্টির জন্য ধ্বংস প্রয়োজন, এবং এই ধ্বংসের মধ্যেই রয়েছে নতুন কিছুর জন্ম।

কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যিক প্রাসঙ্গিকতা:

কাজী নজরুল ইসলাম তার সময়ের সমাজ, রাজনীতি এবং সংস্কৃতির বিরুদ্ধে তার কবিতার মাধ্যমে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন। “অগ্নিবীণা” কাব্যগ্রন্থ এবং “প্রলয়োল্লাস” কবিতা তার সেই বিদ্রোহী চেতনাকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে। নজরুলের সাহিত্যিক কাজগুলি শুধুমাত্র তার সময়েই প্রাসঙ্গিক ছিল না, বরং আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব:

নজরুল ইসলামের “প্রলয়োল্লাস” কবিতা তার সমসাময়িক সমাজের ওপর গভীর প্রভাব ফেলেছিল। তার কবিতার ভাষা এবং বিষয়বস্তু সাধারণ মানুষের হৃদয়ে গেঁথে যায়। তিনি সমাজের অবিচার, শোষণ এবং অসাম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। তার কবিতায় তিনি মানুষের মুক্তি এবং স্বাধীনতার কথা বলেছেন।

উপসংহার:

“প্রলয়োল্লাস” কবিতাটি কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী চেতনার একটি মূর্ত প্রতীক। “অগ্নিবীণা” কাব্যগ্রন্থের প্রথম কবিতা হিসেবে এটি বাংলা সাহিত্যে একটি অমূল্য সংযোজন। কবিতায় ধ্বংস এবং সৃষ্টির সম্পর্ক, বিদ্রোহ এবং নবজাগরণের বার্তা আমাদের চিন্তাভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করে। কাজী নজরুল ইসলামের সাহসী ও শক্তিশালী লেখনী তার সময়ের সমাজ ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটে যেমন প্রাসঙ্গিক ছিল, তেমনি আজও তা আমাদের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।



Source link

Leave a Comment