২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পায় কে? – Bangla MCQ


প্রশ্ন:  ২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পায় কে?

ক.  ডগলাস ডায়মন্ড 

খ.  ক্লডিয়া গোল্ডিন

গ.  ফিলিপ ডিবভিগ

ঘ.  শিরিন এবাদি 

উত্তর:  (খ) ক্লডিয়া গোল্ডিন  । 

ব্যাখ্যা:-

২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার ” ক্লডিয়া গোল্ডিন ”  । 

২০২৩ সালে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন ক্লদিয়া গোল্ডিন (Claudia Goldin)। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্রফেসর এবং অর্থনীতিবিদ। তার গবেষণা মূলত লিঙ্গভিত্তিক বেতন ব্যবধান এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাস নিয়ে। এই প্রবন্ধে, ক্লদিয়া গোল্ডিনের গবেষণা ও অবদান এবং নোবেল পুরস্কার লাভের কারণ নিয়ে আলোচনা করা হবে।

 ক্লদিয়া গোল্ডিনের পরিচিতি:

ক্লদিয়া গোল্ডিন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রফেসর এবং ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনমিক রিসার্চের একজন গবেষক। তার গবেষণার প্রধান ক্ষেত্র হলো লিঙ্গবৈষম্য, শ্রমবাজার এবং শিক্ষার ইতিহাস। গোল্ডিন তার অসাধারণ গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন কিভাবে নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছে এবং কিভাবে লিঙ্গভিত্তিক বেতন ব্যবধান সময়ের সাথে পরিবর্তিত হয়েছে।

 গবেষণার প্রধান থিম:

গোল্ডিনের গবেষণার প্রধান থিম হলো লিঙ্গভিত্তিক বেতন ব্যবধান এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ। তিনি প্রমাণ করেছেন যে শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাস একটি জটিল প্রক্রিয়া, যা বিভিন্ন সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ফলাফল। তার গবেষণা লিঙ্গবৈষম্য এবং বেতন ব্যবধানের কারণগুলি বিশ্লেষণ করে এবং এই সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন নীতি নির্ধারণের পরামর্শ দেয়।

 লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রমবাজার:

ক্লদিয়া গোল্ডিনের গবেষণায় দেখা গেছে যে, বিংশ শতাব্দীর শুরুতে নারীরা শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও তাদের বেতন পুরুষদের তুলনায় অনেক কম ছিল। তার গবেষণা বলছে, এই বৈষম্যের প্রধান কারণগুলো হলো শিক্ষা, পেশাগত অভিজ্ঞতা এবং শ্রমবাজারে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য। 

তিনি প্রমাণ করেছেন যে, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পেয়েছে, কিন্তু বেতন ব্যবধান এখনও রয়ে গেছে। গোল্ডিনের মতে, বেতন ব্যবধান কমানোর জন্য শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ, পিতৃত্বকালীন ছুটি এবং কর্মক্ষেত্রে সমতা বৃদ্ধির প্রয়োজন।

নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তি:

২০২৩ সালে ক্লদিয়া গোল্ডিন অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। নোবেল কমিটি তার গবেষণার গভীরতা এবং লিঙ্গবৈষম্য সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তার অবদানের জন্য তাকে এই পুরস্কার প্রদান করে। তার গবেষণা লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে এবং নীতি নির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেছে।

 প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ:

ক্লদিয়া গোল্ডিনের গবেষণা লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রমবাজারের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তার গবেষণার ফলাফল নীতি নির্ধারকদের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান এবং এটি সমাজে লিঙ্গসমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হতে পারে। গোল্ডিনের কাজ নারীদের জন্য একটি প্রেরণা এবং তার গবেষণা অর্থনীতিতে নারীর অবদানের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।

উপসংহার:

ক্লদিয়া গোল্ডিনের গবেষণা লিঙ্গবৈষম্য এবং শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণের ইতিহাস সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। তার গবেষণা প্রমাণ করেছে যে লিঙ্গবৈষম্য একটি জটিল সমস্যা এবং এটি সমাধানের জন্য সমাজে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রয়োজন। ২০২৩ সালে নোবেল পুরস্কার লাভ করে, ক্লদিয়া গোল্ডিন তার অসাধারণ গবেষণা এবং অবদানের জন্য বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পেয়েছেন। তার কাজ এবং গবেষণা ভবিষ্যতে লিঙ্গসমতা এবং শ্রমবাজারে সমতা বৃদ্ধির জন্য সহায়ক হবে।



Source link

Leave a Comment