‘ শেষের কবিতা ‘ রবীন্দ্রনাথ রচিত কি ? – Bangla MCQ


প্রশ্ন:  ‘ শেষের কবিতা ‘ রবীন্দ্রনাথ রচিত কি ? 

ক.  কাব্য সংকলনের নাম

খ.  কবিতার নাম 

গ.  গল্প সংকলনের নাম 

ঘ.  উপন্যাসের নাম 

উত্তর:  (ঘ) উপন্যাসের নাম  । 

ব্যাখ্যা:-

‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস । এর প্রধান চরিত্র হল অমিত ,  লাবণ্য , কেতকী রায় । 

 ‘শেষের কবিতা’ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এক অমর সাহিত্যকর্ম । 

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, যিনি বাংলা সাহিত্য এবং সঙ্গীত জগতে এক অনন্য নাম, তার অসংখ্য সাহিত্যকর্মের মধ্যে অন্যতম একটি হলো “শেষের কবিতা”। এই উপন্যাসটি বাংলা সাহিত্যের একটি মাইলফলক এবং এটি প্রেম, সম্পর্ক এবং সমাজের প্রচলিত ধারনাগুলি নিয়ে আলোচনা করে। “শেষের কবিতা” রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখনীর এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ, যা পাঠকদের মনোমুগ্ধকর করে তোলে।

 উপন্যাসের পটভূমি:

“শেষের কবিতা” উপন্যাসটি প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯২৯ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসটি লিখেছেন এমন একটি সময়ে যখন সমাজে প্রচলিত সম্পর্ক এবং দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। দার্জিলিং-এর মনোরম পরিবেশে উপন্যাসটির কাহিনী গড়ে উঠেছে, যা উপন্যাসের রোমান্টিক আবহকে আরও গভীর করেছে।

 কাহিনী সংক্ষেপ:

উপন্যাসের মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে অমিত রায় এবং লাবণ্যর প্রেম কাহিনীকে কেন্দ্র করে। 

 প্রধান চরিত্রসমূহ:

– ” অমিত রায় “:  ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক অমিত রায় একজন ধনী এবং বুদ্ধিদীপ্ত যুবক। তিনি ইংরেজি সাহিত্য পড়াশোনা করলেও বাংলা সাহিত্যের প্রতি তার গভীর আগ্রহ রয়েছে। অমিতের চরিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এক যুবকের বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা এবং স্বাধীন চিন্তাধারার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

– ‘লাবণ্য’:  লাবণ্য একজন শিক্ষিত, স্বাবলম্বী এবং বুদ্ধিমতী মেয়ে। তিনি তার জীবনের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে সক্ষম এবং স্বাধীনচেতা। লাবণ্যর চরিত্রে নারীর স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক ফুটে উঠেছে।

– ‘ কেতকী ‘:  কেতকী অমিতের বাগদত্তা। তার সাথে অমিতের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত ভেঙে যায়, কারণ অমিতের মন লাবণ্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়। 

প্রেমের রসায়ন:

অমিত এবং লাবণ্যর সম্পর্কের মধ্যে গভীর প্রেমের রসায়ন রয়েছে। তাদের সম্পর্ক শুধুমাত্র শারীরিক আকর্ষণে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মন ও মস্তিষ্কের সম্পর্ক। অমিত এবং লাবণ্যর মধ্যে চিন্তা ও অনুভূতির আদান-প্রদান তাদের সম্পর্ককে আরও গভীর এবং মজবুত করে তোলে।

সম্পর্কের জটিলতা:

“শেষের কবিতা” উপন্যাসে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সম্পর্কের জটিলতা এবং তার বহুমাত্রিক দিকগুলি তুলে ধরেছেন। অমিত এবং লাবণ্যর সম্পর্কের মধ্যে বিভিন্ন স্তর রয়েছে, যা তাদের চরিত্রের গভীরতা এবং তাদের মানসিকতা প্রকাশ করে। তাদের প্রেমের মধ্যে একটি তীব্রতা এবং স্নিগ্ধতা রয়েছে, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে।

 থিম এবং প্রাসঙ্গিকতা:

উপন্যাসটির প্রধান থিম হলো প্রেম, স্বাধীনতা, এবং আত্মপরিচয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এই উপন্যাসে দেখিয়েছেন কিভাবে প্রেম মানুষকে বদলে দিতে পারে এবং তার জীবনের উদ্দেশ্য ও মানে পরিবর্তন করতে পারে। 

 প্রেম:

প্রেম “শেষের কবিতা”র মূল কেন্দ্রবিন্দু। অমিত এবং লাবণ্যর প্রেম কেবল শারীরিক আকর্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি গভীর মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কের প্রতিফলন। তাদের প্রেমের মধ্যে একটি গভীর তীব্রতা রয়েছে, যা তাদেরকে একে অপরের প্রতি আকৃষ্ট করে।

স্বাধীনতা:

উপন্যাসে ব্যক্তিগত স্বাধীনতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে। অমিত এবং লাবণ্য উভয়েই তাদের নিজস্ব চিন্তাধারা এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রাম করে। লাবণ্যর চরিত্রে নারীর স্বাধীনতা এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক ফুটে উঠেছে, যা তখনকার সমাজের প্রচলিত ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে।

আত্মপরিচয়:

“শেষের কবিতা”র একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো আত্মপরিচয়ের অনুসন্ধান। অমিত এবং লাবণ্য তাদের জীবনের উদ্দেশ্য এবং পরিচয় খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করে। তাদের সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা তাদেরকে নিজেদের সম্পর্কে নতুন কিছু শেখায়।

সাহিত্যিক মূল্যায়ন:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” বাংলা সাহিত্যের একটি উজ্জ্বল রত্ন। তার লেখনীর গভীরতা এবং সংবেদনশীলতা উপন্যাসটিকে পাঠকদের হৃদয়ে গভীর প্রভাব ফেলে। রবীন্দ্রনাথের ভাষা ব্যবহার, চরিত্র চিত্রণ, এবং কাহিনীর বিন্যাস উপন্যাসটিকে একটি অনন্য সাহিত্যকর্মে পরিণত করেছে।

ভাষার শৈলী:

রবীন্দ্রনাথের ভাষার শৈলী উপন্যাসটিকে একটি বিশেষ মাত্রা প্রদান করে। তার লেখনীতে একটি ছন্দ এবং সুর রয়েছে, যা পাঠকদের মুগ্ধ করে। রবীন্দ্রনাথের বর্ণনামূলক ক্ষমতা এবং সংলাপের প্রাঞ্জলতা উপন্যাসটিকে জীবন্ত করে তোলে।

 চরিত্রায়ণ:

“শেষের কবিতা”র চরিত্রগুলি জীবন্ত এবং বাস্তব মনে হয়। অমিত এবং লাবণ্যর চরিত্রের গভীরতা এবং জটিলতা তাদেরকে পাঠকদের কাছে প্রিয় করে তোলে। রবীন্দ্রনাথ তাদের চিন্তা, অনুভূতি, এবং মানসিকতার প্রকাশের মাধ্যমে তাদের চরিত্রগুলিকে জীবন্ত করে তুলেছেন।

 সামাজিক প্রভাব:

“শেষের কবিতা”র সামাজিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। এটি তখনকার সমাজের প্রচলিত ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং নারীর স্বাধীনতা ও আত্মমর্যাদার গুরুত্ব তুলে ধরে। রবীন্দ্রনাথের এই উপন্যাসটি সমাজের চিন্তাভাবনার পরিবর্তনে সহায়ক হয়েছে।

উপসংহার:

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “শেষের কবিতা” একটি অসাধারণ সাহিত্যকর্ম, যা প্রেম, স্বাধীনতা এবং আত্মপরিচয়ের সন্ধান নিয়ে আলোচনা করে। অমিত এবং লাবণ্যর সম্পর্কের জটিলতা এবং তাদের জীবনের অভিজ্ঞতা উপন্যাসটিকে একটি অনন্য সাহিত্যকর্মে পরিণত করেছে। রবীন্দ্রনাথের লেখনীতে যে গভীরতা এবং সংবেদনশীলতা রয়েছে, তা “শেষের কবিতা”কে বাংলা সাহিত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ রত্ন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই উপন্যাসটি শুধুমাত্র একটি প্রেম কাহিনী নয়, বরং এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের বার্তাও বহন করে। “শেষের কবিতা” বাংলা সাহিত্যে একটি মাইলফলক এবং এটি আজও পাঠকদের মধ্যে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।



Source link

Leave a Comment